মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

শাহ ইসমাইল গাজী :

       ঘোড়াঘাটের মাটি খুড়ে যে ক’জন পূন্যাত্মার পদভারে ধন্য হয়েছে তাদের মধ্যে শাহ ইসমাইল গাজী একজন। ঘোড়াঘাট দূর্গের পশ্চিম ধারে সাহেবগঞ্জ মৌজায় তাঁর মাজার অবস্থিত। গোবিন্দগঞ্জুফুলবাড়ী সহাসড়ক এই মাজারের পাশ দিয়ে গন্তব্যে চলে গেছে। গাজীকে জড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে বহু কিংবদন্তী ছড়িয়ে আছে। তার সর্ম্পকে যতটুকু জানা যায়, তা হলো শাহ ইসমাইল গাজী একাধারে ছিলেন মক্কার নবী বংশের সন্তান, গৌড়ের সুলতান রুকুনউদ্দিন বরবক শাহ এর প্রধান সেনাপতি। ঘোড়াঘাট কামরুপ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারক ও আধ্যাত্ববাদী সাধক পুরুষ।

 

জানা যায়, দিনি পবিত্র মক্কা নগরে নবী বংশে জন্মগ্রহণ করেন আনুমানিক ১৪৩০ সালের দিকে। যৌবনে তিনি ধার্মিক ছিলেন ও ধর্ম উপদেশ দান করতেন। তার ওস্তাদের ছোট ভাই মওলানা কমলউদ্দিন কোরান শরীফ তেলাওয়াতকালে পাঠ করেন-‘‘ধর্মযুদ্ধে জীবন দাতাদের উচ্চ পুরুস্কার আছে আল্লাহতালার কাছে। এই আয়াত শোনার পরে ধর্মযোদ্ধা হওয়ার বাসনা তার মনে উদয় হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২০ জন যোদ্ধা/ সাথী নিয়ে তিনি পারস্য হয়ে এলন হিন্দুস্তান। অনেক কায়ক্রেশ সহ্য করে গৌড়ের সুলতান রুকনউ&&দ্দন বরবক শাহ এর দরবারে পৌছেন তিনি। বরবক শাহ ১৪৫৯-১৪৭৬ খ্রিঃ পর্যন্ত গৌড় রাজ্য শাসন করেছিলেন। সুলতানের দরবারে কাচরির আবেদন জানালে সুলতান তাকে শর্তসাপেক্ষে চাকরি দিতে রাজী হন। শর্তটি ছিল সেখানকার ছটিয়া পটিয়া নদীতে একটি মজবুত বাঁধ দিতে হবে যাতে বন্যার  সময় সেখানকার প্রজারা ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়। সুলতানের কথায় শাহ ইসমাইল গাজী সম্মত হলেন এবং তার সঙ্গীদের নিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজে হাত দিলেন। কিছু দিনের মধ্যে সেখানে তিনি একটি মজবুত বাঁধ নির্মাণ করে দিয়ে সুলতানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। অতঃপর সুলতানের সেনাবাহিনীতে তার ও সহযোগীদের চাকরি হয়। ইতোমধ্য গড় মান্দারণের রাজা গজপতি সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এই বিদ্রোহ দমনের জন্য শাহ ইসমাইল এর নেতৃত্বে যুদ্ধাভিযান প্রেরিত হয়। যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হয়ে ফিরে আসেন। সুলতান এতে খুশি হয়ে তাকে গাজী উপাধি দান করেন এবঙ প্রধান সেনাপতিরূপে পদোন্নতি দেন। এরপরে ঘোড়াঘাট এলাকায় কামরূপ রাজ্যের প্রজাদের উৎপাত দমনের জন্য গাজীর নেতৃত্বে দ্বিতীয় আর একটি অভিযান প্রেরিত হয়। দিনাজপুরের সন্তোষ (নওগাঁ) নামক স্থানে গাজীর সাথে কামরূপ রাজার সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে। এই যুদ্ধে গাজী বহু সৈন্য হারিয়ে মাত্র ১২ জন পাইক নিয়ে সরে পড়েন। পরে ঘোড়াঘাটের বারপাইকের গড়ে আশ্রয় গ্রহণ করে উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে তার ভাগিনেয় মোহাম্মদ শাহকে দুর্গ/গড়ের কর্তৃত্ব গিয়ে তিনি জলমোকাম নামক স্থানে (চতরাহাটের নিকট) গিয়ে ধ্যানমগ্ন হন।

সে সময়ে দক্ষিণ- পশ্চিম কামরূপ অঞ্চলের করতোয়া নদীর তীরবর্তী এলাকার শাসক ছিলেন খেন বংশীয় রাজা। কামেশ্বের বা কান্তেশ্বর নামে এই বংশের রাজারা পরিচিত ছিলেন। ঐ বংশের রাজাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজধানী ছিল রংপুর জেলাধীন পীরগঞ্জ থানার অন্তর্গত বড়বিলা পরগণার নীলগড়ে। রাজা যুদ্ধ না করে সুলতানের বশ্যতা স্বীকার করতে রাজী নয়। এর পরেই রাজা একাধিক রাতে কিছু অলৌকিক ঘটনা দেখেন, যার করণ কারণ খুঁজে অস্থির হন। শেষটায় বুঝতে পারলেন, শাহ ইসমাইল গাজীর এই কাজ। রাজা কামেশ্বর সাধক পুরুষ গাজীর সাথে যুদ্ধ না করা সমীচীন মনে করে সুলতানের বশ্যতা স্বীকার করে যুদ্ধের বিষয়টি আপোষ করেন। এর পরে গাজী, গৌড়ের সুলতানের কাছে কামরূপ অঞ্চল বিজয়ের সু-সংবাদ প্রেরণ করেন। সুলতান এই সংবাদ পেয়ে অত্যন্ত খুশি হন।

এদিকে গাজী নিবিঘ্নে কামরূপ রাজ্যের অভ্যন্তরে ইসলাম ধর্ম প্রচারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ঐ সময়ে গৌড় রাজ্যের অন্তর্গত ঘোড়াঘাটের দুর্গাধিপতি ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভান্দুসী রায়। গাজীর জনপ্রিয়তা ও রাজার প্রিয় ভাজন হওয়ার সংবাদে তিনি ঈর্ষান্বিত হন। ভান্দুসী রায় গৌড়ে গিয়ে গাজীর বিরুদ্ধে সুলতানের দরবারে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা লাগায় যে, সুলতানকে অস্বীকারপূর্বক গাজী রাজার সাথে আতাত করে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ কথা শোনার পরে সুলতান গাজীর উপর নাখোশ হন এবং তার শিরোচ্ছেদ করার নিদেশ দেন। সুলতানের নিদেশ পেয়ে কয়েক জন যোদ্ধা গৌড় থেকে ঘোড়াঘাট অঞ্চলে আসেন। ঐ সময়ে গাজী অনেক শিষ্যসমেত রংপুরের পীরগাছা এলাকার (বর্তমানে) বড় দরগায় ইসলাম প্রচার নিয়োজিত ছিলেন। সুলতানের যোদ্ধঅলঅ সেখানে তাকে ঘেরাও করেন এবং কাঁটাদুয়ারে আনতে থাকেন। পার্শ্ববর্তী রঙপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ইসমাইল পুর মৌজায় (বিশ্ব রোডের ধারে) বড় দরগা নামক স্থানে গাজীর দ্বিতীয় একটি আখড়া ছিল। এখান থেকে তিনি উত্তরে মিঠাপুকুর ও কামরূপ এলাকায় ইসলাম প্রচার করতেন ।এই বড় দরগা থেকে গাজীকে সিয়ে যাওয়া হয় পীরগঞ্জ থানার ভিতর দিয়ে দক্ষিণে (১.৪ কিলোমিটার ) দারিয়াপুরে । সেখানে গাজীর হাত বান্ধা হয় এবং সুলতানের ফরমান পাঠ করানো হয়।

পরবর্তীকালে হাতবান্ধা থেকে স্থানটির নাম হাতিবান্ধা হয়েছে। সেখানে খান রাজাদের একটি দুর্গ ছিল। গাজী কর্তৃক বিজিত হওয়া পরে সেখানে মুসরিম কৃষ্টির সূত্রপাত হয়। এখনো সেখানে ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ, ৩টি প্রাচীন সমাধি ও বিশাল একটি জলাশয় আছে। যাহোক ধৃত গাজীকে সুলতানের ফরমান পড়ে শুনানো হয়। ফরমানের নির্দেশনা প্রতি কাজী শ্রদ্ধা জানান। অতঃপর গাজীকে নিয়ে যাওয়া হয় চতরাহাটের উপকন্ঠে কাটাদুয়ারে (চতরাহাটের দক্ষিণে)। ঐতিহাসিক রকম্যানের হতে ১৪৭৪ খ্রিঃ এর ৪ঠা জানুযারী (১৪ শাবান, ৮৭৮ হিজরী) আছরের নামাজের পরে গাজীর শিরোচ্ছেদ করা হয়। তার মন্তক ঘোড়াঘাটের উপর দিয়ে গৌড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে নানা অলৌকিক ঘটনা ঘটে। গৌড়ে সুলতানের দরবারে ঘটনাক্রমে ভান্দুসী রায়ের ষড়যন্ত্র অন্মোচিত হয়। সুলতান নিজের ভুল বুঝতে পেরে গভীর অনুশোচন করেন এবং গাজীর কর্তিত মন্তক শাহী কবরস্থানে সমাধিস্থ করার নির্দেশ দেন। পরে সুলতান স্বপত্নীক কাটাদুয়ারে এসে (যেখানে ধড় সমাধিস্থ করা হয়) গাজীর সমাধি জিয়ারত করেন এবঙ অনেক ভূমি মাজারের হেফাজত ও খেদমত জন্য লাখেরাজ করে দেন। ১৫ উঁটু ও ১.৫০ একর জমিজুড়ে গাজীর মাজার চত্বর, যা এখানো জিয়ারত হয়।

শিরোচ্ছেদের পর একধিক স্থানে গাজীর মাজার ও দরগা গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানা যায়।

 

কবির সাকের মাহমুদঃ কবি সাকের মাহমুদ ছিলেন কবি হেয়াত মামুদের সমসাময়িক কবি। তৎকালীন সরকার ঘোড়াঘাট এর অধীনে বর্ধনকুঠির জমিদার রাজ কবি ছিলেন তিনি। তার জন্ম আনুমানিক ১৭৪৯-৫০ সালের মধ্যে বর্তমান গাইবান্ধা জেলার আদিয়াখালি রিফাইতপুর গ্রামে। পিতা শেখ মামুদ।

 

করম আলী খাঁ :

         সরকার ঘোড়াঘাটের শেখ মোগল ফৌজদর ছিলেন করম আলী খান। জন্ম মর্শিদাবাদে, নবাব আলীবর্দী খানের পরিবারে ১৭৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর। তাঁর পিতা নবাবের মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৭৪৮ খ্রিঃ ঘোড়াঘাটের দায়িত্ব পালন করেন। জানা যায় তিনি মোজাফ্ফর নামা গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

 

মাওলানা আব্দুল কাদেরঃ

      বুলাকীপুর ইউনিয়নের উদয়ধূল গ্রামের বাসিন্দা। জন্ম পাশ্ববর্তী উপজেলার হলাইজানা গ্রামে ১৯০৭ সালে শরীফ মুসলমান পরিবারে।