কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬ এ ০৩:৫১ PM
কন্টেন্ট: পাতা
ঘোড়াঘাট উপজেলা (দিনাজপুর) জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। প্রাচীনকাল থেকে তুর্কি, সুলতানি, পাঠান ও মোগল আমলে এটি উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা প্রভৃতি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে সরকারি উদ্যোগে ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন এলাকায় পুনর্বাসন করা হয়। পুনর্বাসিত এলাকাগুলোর মধ্যে আফসারাবাদ (হায়দারনগর), খোদাদাদপুর, নূরজাহানপুর, নেসারাবাদ ও মালেকাবাদ উল্লেখযোগ্য। সময়ের পরিক্রমায় স্থানীয় জনগণ ও পুনর্বাসিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে মতপার্থক্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঘোড়াঘাটেও স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গড়ে ওঠে। ২৫ মার্চের পর স্থানীয় আনসার, মুজাহিদ, ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মেজর সৈয়দ বদরউদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধানে ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শতাধিক যুবক প্রশিক্ষণ লাভ করেন। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি আব্দুল মজিদ সরকারও একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
২৬ মার্চের পর পাকবাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিরোধে ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে এলাকায় একাধিক সশস্ত্র সংঘর্ষ সংঘটিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষের হতাহতের ঘটনা ঘটে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আরসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হোসেনপুর আমবাগান, বলাহার এবং দক্ষিণ জয়দেবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় পাকবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে। এসব ক্যাম্প থেকে আশপাশের এলাকায় অভিযান, লুণ্ঠন ও নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়।
ঘোড়াঘাট উপজেলার মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব প্রদান করেন মেজর সৈয়দ বদরউদ্দীন আহমেদ, আজহারুল ইসলাম বাবু এবং অধীর কুমার সরকার। তাঁদের নেতৃত্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, আনসার, মুজাহিদ ও সাধারণ জনগণ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঘোড়াঘাট উপজেলার জনগণের অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ, ৩য় খণ্ড।
ঘোড়াঘাট উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেখতে অনুগ্রহপূর্বক সংযুক্ত পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করুন